নগর বার্তা

আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে বঙ্গবন্ধুকে সালাম


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে বঙ্গবন্ধুকে সালাম

নির্বাচনের ‍দুই দিন পর ঢাকার গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উড়িয়েছে একটি দল, তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি সালাম জানান।

শনিবার দুপুরের পর সাত-আটজনের একটি দল আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভবনের সামনে আসে, যে ভবনে বছর দেড়েক ধরেই ঝুলতে দেখা গেছে ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ লেখা একটি ব্যানার।

ঘটনাস্থলের পাশের ফুটপাতের একজন ব্যবসায়ী বলছিলেন, এক দল লোক জাতীয় পতাকা নিয়ে এসে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশে সালাম জানায়। পরে তারা পতাকাটি বিদ্যুতের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে চলে যান।

তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে আর জাতীয় পতাকাটি দেখা যায়নি।

ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী সলিমউল্লাহ ব্যাপারী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তিনি লোকগুলোর কর্মকাণ্ড দেখে সেখানে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন।

তিনি বলেন, “সাত-আটজন লোক আসছিল, তারা সবাই বিভিন্ন ধরনের কাজ করে, কেউ রিকশা চালায়, কেউ ফুটপাতে ব্যবসা করে, আবার কেউ হকার।”

সলিম ব্যাপারী দাবি করেন যে তাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, “তারা আমাকে বলছে, এখন তো আর রাজাকাররা নাই, তারাই এই অফিসে আসলে বাধা দিত। এখন তারা হারছে, তাই আমরা পতাকা উড়াইতে আসছি।”

আশপাশের আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ঘটনাটি তারা সরাসরি দেখেননি, কিন্তু শুনেছেন।

কিন্তু সেখানে জাতীয় পতাকা নেই কেন? জবাবে তারা বলছিলেন, কেউ হয়তো খুলে নিয়ে গেছে।

গত বছরের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলটির কার্যালয় ছাত্র-জনতার রোষানলে পড়ে। তছনছ করার পর আগুন দেওয়া হয় ১০ তলা ভবনটিতে।

এরপর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এ ভবনে ময়লা আবর্জনার স্তুপ জমেছে। ছিন্নমূল মানুষ, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, পথচারীদের শৌচাগারে পরিণত হয়েছিল এটি, ভাসমান মানুষের নেশার আড্ডাও জমতো এখানে।

এরপর ভবঘুরেদের একটি দল ভবনটি দখলে নিয়েছিল; তখন সেই ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ‘ছাত্র’ পরিচয়ধারী আরেকটি পক্ষ। গেল বছর জুলাইয়ে ভবনটি দখলে নেওয়ার পর তারা ঘোষণা দিয়েছেন, সেখানে হবে গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

প্রধান ফটকে তাদের লাল ব্যানারে লেখা- ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট।

তবে এ ধরনের কোনো ইনস্টিটিউট করার বিষয়ে সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

সরকার পতনের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সড়ক, স্থাপনার নাম পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এবার বদলে গেছে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের নাম। সড়কটির নতুন নাম হয়েছে শহীদ আবরার ফাহাদ এভিনিউ।

কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছাড়াও রাজধানীর তেঁজগাওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়েও অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়। তখন থেকে এই তিন ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

গেল বছর মে মাসে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে, যে কারণে দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ছিল না।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। গেল বছর ঢাকার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে ঝটিকা মিছিল।

সবশেষ গত বছরের ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের অনলাইনে ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভবনটিতে আবারও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল।

১৯৮১ সালের দিকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা হয় ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ। এখনকার ১০ তলা নতুন ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছিল ২০১৮ সালে।

আশপাশের হকার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃহস্পতিবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বহু আগে থেকেই ভবঘুরেদের আনাঘোনা কমে গেছে। ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ নাম দেওয়া ছাত্র নামধারীদেরও আর দেখা যায় না।

আপনার মতামত লিখুন

নগর বার্তা

বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬


আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে বঙ্গবন্ধুকে সালাম

প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

নির্বাচনের ‍দুই দিন পর ঢাকার গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উড়িয়েছে একটি দল, তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি সালাম জানান।

শনিবার দুপুরের পর সাত-আটজনের একটি দল আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভবনের সামনে আসে, যে ভবনে বছর দেড়েক ধরেই ঝুলতে দেখা গেছে ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ লেখা একটি ব্যানার।

ঘটনাস্থলের পাশের ফুটপাতের একজন ব্যবসায়ী বলছিলেন, এক দল লোক জাতীয় পতাকা নিয়ে এসে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশে সালাম জানায়। পরে তারা পতাকাটি বিদ্যুতের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে চলে যান।

তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে আর জাতীয় পতাকাটি দেখা যায়নি।

ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী সলিমউল্লাহ ব্যাপারী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তিনি লোকগুলোর কর্মকাণ্ড দেখে সেখানে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন।

তিনি বলেন, “সাত-আটজন লোক আসছিল, তারা সবাই বিভিন্ন ধরনের কাজ করে, কেউ রিকশা চালায়, কেউ ফুটপাতে ব্যবসা করে, আবার কেউ হকার।”

সলিম ব্যাপারী দাবি করেন যে তাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, “তারা আমাকে বলছে, এখন তো আর রাজাকাররা নাই, তারাই এই অফিসে আসলে বাধা দিত। এখন তারা হারছে, তাই আমরা পতাকা উড়াইতে আসছি।”

আশপাশের আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ঘটনাটি তারা সরাসরি দেখেননি, কিন্তু শুনেছেন।

কিন্তু সেখানে জাতীয় পতাকা নেই কেন? জবাবে তারা বলছিলেন, কেউ হয়তো খুলে নিয়ে গেছে।

গত বছরের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলটির কার্যালয় ছাত্র-জনতার রোষানলে পড়ে। তছনছ করার পর আগুন দেওয়া হয় ১০ তলা ভবনটিতে।

এরপর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এ ভবনে ময়লা আবর্জনার স্তুপ জমেছে। ছিন্নমূল মানুষ, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, পথচারীদের শৌচাগারে পরিণত হয়েছিল এটি, ভাসমান মানুষের নেশার আড্ডাও জমতো এখানে।

এরপর ভবঘুরেদের একটি দল ভবনটি দখলে নিয়েছিল; তখন সেই ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ‘ছাত্র’ পরিচয়ধারী আরেকটি পক্ষ। গেল বছর জুলাইয়ে ভবনটি দখলে নেওয়ার পর তারা ঘোষণা দিয়েছেন, সেখানে হবে গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

প্রধান ফটকে তাদের লাল ব্যানারে লেখা- ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট।

তবে এ ধরনের কোনো ইনস্টিটিউট করার বিষয়ে সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

সরকার পতনের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সড়ক, স্থাপনার নাম পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এবার বদলে গেছে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের নাম। সড়কটির নতুন নাম হয়েছে শহীদ আবরার ফাহাদ এভিনিউ।

কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছাড়াও রাজধানীর তেঁজগাওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়েও অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়। তখন থেকে এই তিন ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

গেল বছর মে মাসে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে, যে কারণে দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ছিল না।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। গেল বছর ঢাকার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে ঝটিকা মিছিল।

সবশেষ গত বছরের ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের অনলাইনে ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভবনটিতে আবারও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল।

১৯৮১ সালের দিকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা হয় ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ। এখনকার ১০ তলা নতুন ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছিল ২০১৮ সালে।

আশপাশের হকার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃহস্পতিবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বহু আগে থেকেই ভবঘুরেদের আনাঘোনা কমে গেছে। ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ নাম দেওয়া ছাত্র নামধারীদেরও আর দেখা যায় না।


নগর বার্তা



কপিরাইট © ২০২৬ নগর বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত