হাওরের কৃষকদের পাকা ধান তলিয়ে গেছে বৃষ্টির পানিতে , চরম ক্ষতির মুখে হাজারো পরিবার। ৩নং মৃগা ইউনিয়ন বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার অন্তর্গত একটি প্রশাসনিক এলাকা, যা ঢাকা বিভাগের আওতাধীন ।
হাওর অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অকাল বৃষ্টিতে ও পানিবন্দি অবস্থার কারণে পাকা ধান কাটতে না পারায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো কৃষক।
এমন সংকটময় মুহূর্তে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মারজান মেম্বার, অ্যাডভোকেট আজিজুল এবং কালাম মেম্বার কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তারা দ্রুত হাওরের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, যাতে কৃষকরা তাদের পাকা ধান দ্রুত কাটতে পারেন।
জানা গেছে, এই ফসল ফলাতে কৃষকদের অনেকেই ঋণ নিয়ে কিস্তির মাধ্যমে বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু সময়মতো ধান কাটতে না পারলে তারা মহাজনের ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন না—এমন আশঙ্কায় তারা চরম উদ্বিগ্ন।
কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধানই তাদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র ভরসা। তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে ফসল রক্ষার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দেশের বিভিন্ন হাওর অঞ্চলে অকাল বৃষ্টির বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের ফলে হাওরের পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে পাকা ধান তলিয়ে গেছে। এতে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে গেছে এক নিমিষেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক কৃষক সময়মতো ধান কাটতে পারেননি। ঠিক সেই সময়েই পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষেতের পাকা ধান পানির নিচে ডুবে যায়। ফলে এক মৌসুমের সব পরিশ্রম মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে গেছে।
৩ নং মৃগা ইউনিয়নের মৃগা গ্রামে টানা বৃষ্টি ও হাওরের পানিতে ডুবে যাচ্ছে কৃষকদের পাকা ধান। এতে করে শতাধিক কৃষক মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকেই সময়মতো ধান কাটতে না পারায় তাদের ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
১) মোঃ এনায়েত শেখ
২) লাইম পাশার কালাম মেম্বার
৩) বাবলু মিয়া
৪) সেবুল মিয়া
৫) জয়লাল দাস
৬) দুলাল মিয়া
৭) বিল্লাল মিয়া
৮) মিজানুর রহমান
৯) হাকিম শেখ
১০) নাসির মিয়া
১১) আমরুল মিয়া
১২) রিপন মিয়া
১৩) বাহাদুর মিয়া
১৪) কেলু মিয়া
১৫) আমির মিয়া
১৬) হাবি সর্দার
১৭) খায়রুল মিয়া
১৮) নজরুল ইসলাম
১৯) মোতালিম মিয়া
২০) লতিব মিয়া
২১) মিমতুল মিয়া
২২) সাগর শীল
২৩) ইসরাইল মিয়া
২৪) আবুল হাসান
২৫) দিলু মিয়া
২৬) রঞ্জিত দাস
২৭) ফকির নূরু মিয়া
২৮) সবুজ মিয়া
২৯) সায়েদ মিয়া
৩০) ইছব মিয়া
৩১) হারুন মিয়া
৩২) নাজিম মিয়া
৩৩) নিজাম মিয়া
৩৪) মান্জু মিয়া
৩৫) আলমাস মিয়া
স্থানীয় কৃষকরা জানান, হঠাৎ করে বৃষ্টির পানি বেড়ে যাওয়ায় তাদের পাকা ধান কাটার আগেই ডুবে গেছে। এতে তারা চরম হতাশা ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
হাওরের পানি কমানোর কাজ করতে গিয়ে এক কৃষক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত কৃষকের নাম মিজানুর রহমান। কাজ করার সময় কোদালের আঘাতে তার পায়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। এতে তার পায়ে একটি রগ কেটে যায় এবং ক্ষতস্থানে ৭টি সেলাই দিতে হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, তারা ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগেই এমন বিপর্যয়ে পড়ে তারা এখন দিশেহারা। পরিবারের খরচ চালানো, ঋণ পরিশোধ করা—সবকিছুই এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। সরকারিভাবে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমন অকাল বন্যার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। তাই হাওর অঞ্চলের কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
কৃষকদের এই দুর্ভোগ শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, এটি তাদের জীবনের উপর গভীর প্রভাব ফেলছে। দ্রুত সহায়তা ও সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া এই সংকট কাটিয়ে উঠা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
হাওরের কৃষকদের পাকা ধান তলিয়ে গেছে বৃষ্টির পানিতে , চরম ক্ষতির মুখে হাজারো পরিবার। ৩নং মৃগা ইউনিয়ন বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার অন্তর্গত একটি প্রশাসনিক এলাকা, যা ঢাকা বিভাগের আওতাধীন ।
হাওর অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অকাল বৃষ্টিতে ও পানিবন্দি অবস্থার কারণে পাকা ধান কাটতে না পারায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো কৃষক।
এমন সংকটময় মুহূর্তে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মারজান মেম্বার, অ্যাডভোকেট আজিজুল এবং কালাম মেম্বার কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তারা দ্রুত হাওরের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, যাতে কৃষকরা তাদের পাকা ধান দ্রুত কাটতে পারেন।
জানা গেছে, এই ফসল ফলাতে কৃষকদের অনেকেই ঋণ নিয়ে কিস্তির মাধ্যমে বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু সময়মতো ধান কাটতে না পারলে তারা মহাজনের ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন না—এমন আশঙ্কায় তারা চরম উদ্বিগ্ন।
কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধানই তাদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র ভরসা। তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে ফসল রক্ষার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দেশের বিভিন্ন হাওর অঞ্চলে অকাল বৃষ্টির বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের ফলে হাওরের পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে পাকা ধান তলিয়ে গেছে। এতে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে গেছে এক নিমিষেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক কৃষক সময়মতো ধান কাটতে পারেননি। ঠিক সেই সময়েই পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষেতের পাকা ধান পানির নিচে ডুবে যায়। ফলে এক মৌসুমের সব পরিশ্রম মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে গেছে।
৩ নং মৃগা ইউনিয়নের মৃগা গ্রামে টানা বৃষ্টি ও হাওরের পানিতে ডুবে যাচ্ছে কৃষকদের পাকা ধান। এতে করে শতাধিক কৃষক মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকেই সময়মতো ধান কাটতে না পারায় তাদের ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
১) মোঃ এনায়েত শেখ
২) লাইম পাশার কালাম মেম্বার
৩) বাবলু মিয়া
৪) সেবুল মিয়া
৫) জয়লাল দাস
৬) দুলাল মিয়া
৭) বিল্লাল মিয়া
৮) মিজানুর রহমান
৯) হাকিম শেখ
১০) নাসির মিয়া
১১) আমরুল মিয়া
১২) রিপন মিয়া
১৩) বাহাদুর মিয়া
১৪) কেলু মিয়া
১৫) আমির মিয়া
১৬) হাবি সর্দার
১৭) খায়রুল মিয়া
১৮) নজরুল ইসলাম
১৯) মোতালিম মিয়া
২০) লতিব মিয়া
২১) মিমতুল মিয়া
২২) সাগর শীল
২৩) ইসরাইল মিয়া
২৪) আবুল হাসান
২৫) দিলু মিয়া
২৬) রঞ্জিত দাস
২৭) ফকির নূরু মিয়া
২৮) সবুজ মিয়া
২৯) সায়েদ মিয়া
৩০) ইছব মিয়া
৩১) হারুন মিয়া
৩২) নাজিম মিয়া
৩৩) নিজাম মিয়া
৩৪) মান্জু মিয়া
৩৫) আলমাস মিয়া
স্থানীয় কৃষকরা জানান, হঠাৎ করে বৃষ্টির পানি বেড়ে যাওয়ায় তাদের পাকা ধান কাটার আগেই ডুবে গেছে। এতে তারা চরম হতাশা ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
হাওরের পানি কমানোর কাজ করতে গিয়ে এক কৃষক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত কৃষকের নাম মিজানুর রহমান। কাজ করার সময় কোদালের আঘাতে তার পায়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। এতে তার পায়ে একটি রগ কেটে যায় এবং ক্ষতস্থানে ৭টি সেলাই দিতে হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, তারা ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগেই এমন বিপর্যয়ে পড়ে তারা এখন দিশেহারা। পরিবারের খরচ চালানো, ঋণ পরিশোধ করা—সবকিছুই এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। সরকারিভাবে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমন অকাল বন্যার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। তাই হাওর অঞ্চলের কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
কৃষকদের এই দুর্ভোগ শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, এটি তাদের জীবনের উপর গভীর প্রভাব ফেলছে। দ্রুত সহায়তা ও সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া এই সংকট কাটিয়ে উঠা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন