নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মালিবাগের আবুজর গিফারী কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে কলেজটির সাবেক সভাপতি ড. আবু নাছের আহম্মেদ ইশতিয়াক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহাম্মদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে আদালতের আদেশ অমান্য করে কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। কলেজের বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নূর-উল-মতিন।
রিটকারী পক্ষের আইনজীবী নূর-উল-মতিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) বজায় রাখার আদেশ অমান্য করে আবুজর গিফারী কলেজের গভর্নিং বডির কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে দুজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
রুলে ড. আবু নাছের আহম্মেদ ইশতিয়াক ও মো. ফরিদ আহাম্মদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
যেভাবে শুরু বিরোধের
মামলার নথি ও আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবুজর গিফারী কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরীকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে। এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কর্তৃক তার সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন।
রিটের শুনানি নিয়ে গত ২৩ জুন হাইকোর্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ২২ এপ্রিল জারি করা সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তসংক্রান্ত চিঠির কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন।
এরপর কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি ড. আবু নাছের আহম্মেদ ইশতিয়াক এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মো. ফরিদ আহাম্মদ হাইকোর্টের ওই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে ‘সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল’ করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন। একই সঙ্গে হাইকোর্টে বিচারাধীন রুল ছয় সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদেশ অমান্যের অভিযোগ
আইনজীবী নূর-উল-মতিনের অভিযোগ, আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতের ওই আদেশের পরও সাবেক গভর্নিং বডি সভাপতি ড. ইশতিয়াক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহাম্মদ কলেজের গভর্নিং বডির কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেন।
কনটেম্পট পিটিশনে বলা হয়, আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী রিটের রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরীর গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ড. আবু নাছের আহম্মেদ ইশতিয়াক ও মো. ফরিদ আহাম্মদ ওই আদেশের পরিপন্থি কার্যক্রম চালানোর উদ্যোগ নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ড. আবু নাছের আহম্মেদ ইশতিয়াকের কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে সকাল ১০টায় আবুজর গিফারী কলেজের গভর্নিং বডির সভা আহ্বান করা হয়। আবেদনকারী পক্ষের দাবি, এ সভা আয়োজন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতের ৯ সেপ্টেম্বরের আদেশের লঙ্ঘন।
এ ছাড়া কলেজের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা এবং সেখান থেকে অর্থ উত্তোলনেরও অভিযোগ করা হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশের পর আদালতে আবেদন
আবেদনে বলা হয়, আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ড. আবু নাছের আহম্মেদ ইশতিয়াক ও মো. ফরিদ আহাম্মদকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগে কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
রিটকারী পক্ষের দাবি, লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্টরা আদালতের আদেশের পরিপন্থি কার্যক্রম চালিয়ে যান। পরে অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরী হাইকোর্টে আদালত অবমাননার অভিযোগে কনটেম্পট পিটিশন দায়ের করেন।
ওই আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ড. আবু নাছের আহম্মেদ ইশতিয়াক ও মো. ফরিদ আহাম্মদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।