ঢাকা   মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Nagorbarta

মুন্সিগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীনগর বাজারের জমজম টাওয়ার এলাকায় এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তাও এ সময় আহত হন। সংঘর্ষে জড়ানো এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু। অন্য পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহর অনুসারী ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বেলা ১১টায় জমজম টাওয়ার এলাকা থেকে মীর সরফত আলীর অনুসারীদের আনন্দমিছিল বের করার কর্মসূচি ছিল। বিকেল চারটায় শ্রীনগর স্টেডিয়ামে শেখ মো. আব্দুল্লাহ ও হাফিজুল ইসলাম খানের অনুসারীদের কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। মীর সরফত আলীর অনুসারীরা সকাল থেকে জমজম টাওয়ারের সামনে জড়ো হচ্ছিলেন। হাফিজুল ইসলাম খানের কয়েকজন অনুসারী ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির পর উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান। সংঘর্ষের সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। শ্রীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্ত মাথায় ইটের টুকরার আঘাত পান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মীর সরফত আলীর বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তাঁর সমর্থক কাজী শাহেদ দাবি করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টার দিকে তাঁরা জমজম টাওয়ারের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হাফিজুল ইসলাম খানের ৩০ থেকে ৩৫ জন অনুসারী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা করেন। কাজী শাহেদের দাবি, হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত সুমনকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে হাফিজুল ইসলাম খান বলেন, সকাল থেকে তিনি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে তিনি জানতে পারেন, তাঁদের লোকজন বাজারে যাওয়ার সময় মীর সরফত আলীর অনুসারীদের হামলার শিকার হয়েছেন। হাফিজুল ইসলাম খানের দাবি, হামলায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রনি ও বাজারের দোকানদার তুহিনসহ তাঁদের পক্ষের পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন পুলিশের ওপরও হামলা করে বলে দাবি করেন তিনি। স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা জানান, মুন্সিগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান-শ্রীনগর) আসনের নেতৃত্ব নিয়ে মীর সরফত আলী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলামের সঙ্গে সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ ও হাফিজুল ইসলাম খানের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। গত সংসদ নির্বাচনে সরফত আলী এ আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। পরে দল থেকে শেখ মো. আব্দুল্লাহকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর থেকে দুই পক্ষের বিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়ে ওঠে এবং তাঁরা দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি আলাদাভাবে পালন করে আসছেন। শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তামান্না বিনতে তাহসিন বলেন, বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মাথা ও শরীরে আঘাত নিয়ে চারজন চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে মাথায় আঘাতের কারণে সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্ত বলেন, মিছিল নিয়ে আসার সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় তাঁর মাথায় ইটের টুকরার আঘাত লাগে। আঘাত গুরুতর নয় বলে জানান তিনি।

মুন্সিগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০