নোয়াখালীতে কার্ড দেওয়ার নামে অনৈতিক সম্পর্ক ও ঘুষ দাবির অভিযোগ, তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি
কবিরহাট (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নোয়াখালীর কবিরহাটে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ইউনিয়ন সমাজকর্মী মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ওই কর্মকর্তার ৪ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের একটি অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এছাড়া অন্য এক নারীর কাছে ভাতার কার্ড দেওয়ার নামে ৩ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অডিও রেকর্ডও ভাইরাল হয়েছে।
অভিযুক্ত মফিজুর রহমান কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নবগ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে তিনি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীন নরোত্তমপুর, চাপরাশিরহাট, বাটইয়া ইউনিয়ন ও কবিরহাট পৌরসভা এলাকায় সমাজকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিডিওতে দৃশ্যমান নারী বাটইয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মফিজুর রহমান অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডে দেখা যায়, আরেক নারীর কাছে ভাতার কার্ড বাবদ ৩ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। সেখানে বিকাশে টাকা পাঠাতে চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সরাসরি নগদে টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে মফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নিজেই বলে স্বীকার করেন। তবে ঘটনার ব্যাখ্যায় তিনি দাবি করেন, "ওই নারী আমার পূর্বপরিচিত। একদিন তিনি আমাকে একটি কক্ষে নিয়ে শরবতের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে খাইয়েছিলেন। এরপর কী ঘটেছে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।" ঘুষ দাবির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে জেনেছে এবং তাকে সতর্কও করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, এ কার্যালয়ে যোগদানের পরই তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। ভিডিও ও অডিও ফাঁসের ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত ও দাপ্তরিক নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জেড এম মিজানুর রহমান খান বলেন, "অভিযোগ ও ভাইরাল ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন, অর্থ ও প্রতিষ্ঠান শাখা) মোহাম্মদ আবুল কাশেমকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।