ঢাকা   শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
Nagorbarta

এই প্রথম আসাদের কোনো সহযোগীকে সিরিয়ায় প্রত্যর্পণ


অনলাইন  ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

এই প্রথম আসাদের কোনো সহযোগীকে সিরিয়ায় প্রত্যর্পণ
সিরিয়ার সাবেক জেনারেল আদেল ইসা। ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে দায়িত্ব পালন করা সাবেক এক জেনারেলকে যুদ্ধাপরাধসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে সিরিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছে লেবানন। আসাদ সরকারের পতনের পর এই প্রথম কোনো সাবেক উচ্চপদস্থ সিরীয় সামরিক কর্মকর্তাকে লেবানন থেকে সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যর্পণ করা হলো।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিবিসি জানায়, প্রত্যর্পণ করা ওই কর্মকর্তার নাম মেজর জেনারেল আদেল ইসা। ৬৭ বছর বয়সী ইসা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন সামরিক দায়িত্ব পালন করেছেন। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ—তিনি হত্যা, নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানো এবং গৃহযুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত উসকে দেওয়ার উদ্দেশে আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ডসহ একাধিক অপরাধে জড়িত ছিলেন।

গত ৮ আগস্ট বৈরুতে সিরীয় দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ সারতে গেলে আদেল ইসাকে আটক করা হয়। পরে গত বুধবার তাঁকে সিরীয় কর্তৃপক্ষের হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়।

বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার বহু সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী লেবাননে আশ্রয় নেন। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লেবাননের ওপর নতুন সিরীয় সরকারের চাপ ছিল বলে জানা গেছে। এই প্রেক্ষাপটে আদেল ইসার প্রত্যর্পণকে দুই দেশের সম্পর্ক ও যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় দেইর আজ-জোর প্রদেশে স্থলবাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন আদেল ইসা। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় ওই অঞ্চলে সরকারি বাহিনী ও বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছিল।

তবে গ্রেপ্তারের সময় ইসা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

লেবানন ও সিরিয়ার মধ্যে ১৯৫১ সালে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির আওতায় ইসাকে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন তাঁর মামলাটি দামেস্কের একজন রেফারেল বিচারকের কাছে যাবে। তিনি অভিযোগগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করবেন। এরপর মামলাটি ফৌজদারি আদালতে পাঠানো হতে পারে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে সিরিয়া লেবানন কর্তৃপক্ষের কাছে ২০০ জনের বেশি সাবেক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার একটি তালিকা দিয়েছিল। সিরিয়ার নতুন সরকার এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে চায়।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আসাদ আমলের সাবেক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা শুরু হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে দামেস্কের একটি আদালত সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং তাঁর ভাই মাহের আল-আসাদকে গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। সিরিয়ায় নতুন বাহিনী ক্ষমতা দখল করার সময় তাঁরা মস্কোতে পালিয়ে যান।

এদিকে বাশার আল-আসাদের দুই চাচাতো ভাই ওয়াসিম আল-আসাদ ও আতিফ নাজিবকে সিরিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ দেশটিকে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহী বাহিনী রাজধানী দামেস্ক দখল করলে বাশার আল-আসাদের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। এরপর থেকেই নতুন সিরীয় সরকার সাবেক শাসনামলের নির্যাতন, হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

বিষয় : মধ্যপ্রাচ্য লেবানন বাশার আল আসাদ সিরিয়া

Nagorbarta

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


এই প্রথম আসাদের কোনো সহযোগীকে সিরিয়ায় প্রত্যর্পণ

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে দায়িত্ব পালন করা সাবেক এক জেনারেলকে যুদ্ধাপরাধসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে সিরিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছে লেবানন। আসাদ সরকারের পতনের পর এই প্রথম কোনো সাবেক উচ্চপদস্থ সিরীয় সামরিক কর্মকর্তাকে লেবানন থেকে সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যর্পণ করা হলো।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিবিসি জানায়, প্রত্যর্পণ করা ওই কর্মকর্তার নাম মেজর জেনারেল আদেল ইসা। ৬৭ বছর বয়সী ইসা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন সামরিক দায়িত্ব পালন করেছেন। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ—তিনি হত্যা, নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানো এবং গৃহযুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত উসকে দেওয়ার উদ্দেশে আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ডসহ একাধিক অপরাধে জড়িত ছিলেন।

গত ৮ আগস্ট বৈরুতে সিরীয় দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ সারতে গেলে আদেল ইসাকে আটক করা হয়। পরে গত বুধবার তাঁকে সিরীয় কর্তৃপক্ষের হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়।

বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার বহু সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী লেবাননে আশ্রয় নেন। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লেবাননের ওপর নতুন সিরীয় সরকারের চাপ ছিল বলে জানা গেছে। এই প্রেক্ষাপটে আদেল ইসার প্রত্যর্পণকে দুই দেশের সম্পর্ক ও যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় দেইর আজ-জোর প্রদেশে স্থলবাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন আদেল ইসা। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় ওই অঞ্চলে সরকারি বাহিনী ও বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছিল।

তবে গ্রেপ্তারের সময় ইসা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

লেবানন ও সিরিয়ার মধ্যে ১৯৫১ সালে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির আওতায় ইসাকে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন তাঁর মামলাটি দামেস্কের একজন রেফারেল বিচারকের কাছে যাবে। তিনি অভিযোগগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করবেন। এরপর মামলাটি ফৌজদারি আদালতে পাঠানো হতে পারে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে সিরিয়া লেবানন কর্তৃপক্ষের কাছে ২০০ জনের বেশি সাবেক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার একটি তালিকা দিয়েছিল। সিরিয়ার নতুন সরকার এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে চায়।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আসাদ আমলের সাবেক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা শুরু হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে দামেস্কের একটি আদালত সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং তাঁর ভাই মাহের আল-আসাদকে গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। সিরিয়ায় নতুন বাহিনী ক্ষমতা দখল করার সময় তাঁরা মস্কোতে পালিয়ে যান।

এদিকে বাশার আল-আসাদের দুই চাচাতো ভাই ওয়াসিম আল-আসাদ ও আতিফ নাজিবকে সিরিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ দেশটিকে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহী বাহিনী রাজধানী দামেস্ক দখল করলে বাশার আল-আসাদের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। এরপর থেকেই নতুন সিরীয় সরকার সাবেক শাসনামলের নির্যাতন, হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।


Nagorbarta

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এইচ এম মামুন
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এইচ এম মামুন