ঢাকা   বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
Nagorbarta

আগস্টের ৫ তারিখ যেভাবে হলো ‘৩৬ জুলাই’



আগস্টের ৫ তারিখ যেভাবে  হলো ‘৩৬ জুলাই’
ছবি: সংগৃহীত

ক্যালেন্ডারের পাতা অনুযায়ী দিনটি ছিল ৫ আগস্ট। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও দেশত্যাগের পর বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার উল্লাসে মুখরিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথ—সবখানেই ভেসে ওঠে একটি প্রতীকী শব্দবন্ধ: ‘৩৬ জুলাই’। আপাতদৃষ্টিতে পঞ্জিকার নিয়মে যা অসম্ভব, আন্দোলনকারীদের কাছে তা হয়ে ওঠে একটি ঐতিহাসিক সত্য ও বিজয়ের স্মারক।

২০২৪ সালের ১ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। ১৬ জুলাই থেকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের হামলায় প্রাণহানি শুরু হলে বিক্ষোভ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এদিন সারাদেশে এই আন্দোলনে থাকা ৬ জনের মৃত্যু হয়। শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোটা সংস্কার হলেও এক পর্যায়ে সেটা এক দফা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। 

জুলাই মাসজুড়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেকের প্রাণহানির ঘটনায় আন্দোলনকারীদের শপথ ছিল—দাবি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রামের ‘জুলাই মাস’ শেষ হবে না। ফলে আগস্টের ১ তারিখ থেকে তারা নতুন মাসের গণনা শুরু না করে সেটিকে জুলাইয়ের বর্ধিত অংশ হিসেবে দেখতে থাকেন। 

আরও পড়ুনআরও পড়ুনগণভবন থেকে হিন্দন: হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনাপ্রবাহ

প্রতিবাদের এই অভিনব ধারায় ১ আগস্ট হয়ে ওঠে ‘৩১ জুলাই’, ৪ আগস্ট ‘৩৪ জুলাই’ এবং অবশেষে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের চূড়ান্ত বিজয়ের দিনটিকে চিহ্নিত করা হয় ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে। 

আন্দোলনকারীদের মতে, এই ‘৩৬ জুলাই’ কেবল একটি দিন গণনা নয়; এটি শহীদদের রক্ত ও আত্মত্যাগকে অমর করে রাখার এক প্রতীকী অঙ্গীকার। গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পতনের মাধ্যমে এই দিনটি তাই বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে নেয়। 

বিষয় : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২ বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থান

Nagorbarta

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


আগস্টের ৫ তারিখ যেভাবে হলো ‘৩৬ জুলাই’

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ক্যালেন্ডারের পাতা অনুযায়ী দিনটি ছিল ৫ আগস্ট। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও দেশত্যাগের পর বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার উল্লাসে মুখরিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথ—সবখানেই ভেসে ওঠে একটি প্রতীকী শব্দবন্ধ: ‘৩৬ জুলাই’। আপাতদৃষ্টিতে পঞ্জিকার নিয়মে যা অসম্ভব, আন্দোলনকারীদের কাছে তা হয়ে ওঠে একটি ঐতিহাসিক সত্য ও বিজয়ের স্মারক।

২০২৪ সালের ১ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। ১৬ জুলাই থেকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের হামলায় প্রাণহানি শুরু হলে বিক্ষোভ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এদিন সারাদেশে এই আন্দোলনে থাকা ৬ জনের মৃত্যু হয়। শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোটা সংস্কার হলেও এক পর্যায়ে সেটা এক দফা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। 

জুলাই মাসজুড়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেকের প্রাণহানির ঘটনায় আন্দোলনকারীদের শপথ ছিল—দাবি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রামের ‘জুলাই মাস’ শেষ হবে না। ফলে আগস্টের ১ তারিখ থেকে তারা নতুন মাসের গণনা শুরু না করে সেটিকে জুলাইয়ের বর্ধিত অংশ হিসেবে দেখতে থাকেন। 

আরও পড়ুনআরও পড়ুনগণভবন থেকে হিন্দন: হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনাপ্রবাহ

প্রতিবাদের এই অভিনব ধারায় ১ আগস্ট হয়ে ওঠে ‘৩১ জুলাই’, ৪ আগস্ট ‘৩৪ জুলাই’ এবং অবশেষে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের চূড়ান্ত বিজয়ের দিনটিকে চিহ্নিত করা হয় ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে। 

আন্দোলনকারীদের মতে, এই ‘৩৬ জুলাই’ কেবল একটি দিন গণনা নয়; এটি শহীদদের রক্ত ও আত্মত্যাগকে অমর করে রাখার এক প্রতীকী অঙ্গীকার। গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পতনের মাধ্যমে এই দিনটি তাই বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে নেয়। 


Nagorbarta

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এইচ এম মামুন
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এইচ এম মামুন