গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার কামারঝুরি ও দৌলতপুর এলাকায় জমি দখল, গাছপালা কেটে ক্ষতিসাধন এবং পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মোহাম্মদ ইউসুফ আলী নামে এক ব্যক্তি গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
থানায় দেওয়া অভিযোগে ইউসুফ আলী দাবি করেন, কামারঝুরি ও দৌলতপুর মৌজায় তাঁর, তাঁর স্ত্রী খোদেজা বেগম এবং ছেলে আমির হোসেনের মালিকানাধীন জমি রয়েছে। এর মধ্যে দৌলতপুর মৌজার প্রায় পাঁচ শতাংশ জমি অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই জমির একটি অংশ ২০২৪ সালে শরিফুল নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে ইউসুফ আলী আরও উল্লেখ করেন, দখল করা জমিতে থাকা ফলজ ও বনজ গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে। সেখানে একটি সেড নির্মাণ করে ব্যবহার করা হচ্ছে। গত ১৮ মে ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় গাছপালা কেটে আনুমানিক পাঁচ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারী বলেন, তাঁর স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা এতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাঁদের হত্যার এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেন। পাশাপাশি জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়া এবং সেখানে দেয়াল নির্মাণ করে ভবিষ্যতে জমি ব্যবহারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার কথাও অভিযুক্তরা বলাবলি করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্তরা গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবদুল আল মামুন মন্ডলের অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, মামুন মন্ডলের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবারের জমি ভোগদখল করে আসছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, জমির মালিকানা নিয়ে সামাজিকভাবে একাধিকবার বিচার-সালিশ হলেও ভুক্তভোগী পরিবার জমি বুঝে নিতে পারেনি। জমি দখলে নিতে গেলে হামলা এবং বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
তাঁদের আরও দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আর্থিক সক্ষমতার কারণে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে জমিগুলো ভোগদখলে রেখেছেন। তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী ইউসুফ আলী ও তাঁর ছেলে আমির হোসেনের দাবি, জমির দলিল, খতিয়ান ও অন্যান্য ভূমি-সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করা হোক। কাগজপত্র যাচাইয়ে তাঁরা বৈধ মালিক প্রমাণিত হলে তাঁদের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে আবদুর রউফ, সোহেল, শাওন ও ফজলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁদের কয়েকজন এলাকায় না থাকায় এবং মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আবদুল আল মামুন মন্ডলের বৈষম বিরোধী ছাত্র হত্যা মামলায় গ্রেফতার অবস্থায় রয়েছেন আন্তর্জাতিক টার্মিালে বর্তমানে তার অসংখ্য মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে এজন্যই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি
এ বিষয়ে গাছা থানায় দেওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের আইনগত পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি কার্যালয়ের নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।