গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন দক্ষিণ খাইলকুর এলাকায় একটি জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে মো. কাউছার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় জমিটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. মোজাম্মেল হোসেন গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে অভিযোগকারী মোজাম্মেল হোসেন জমিটির প্রকৃত মালিক নন। জমিটির মালিক তার বেয়াই মো. খোকন।
২০১৩ সালে মো. খোকন জমিটি কেনার পর তার আত্মীয় মোজাম্মেল হোসেনকে সেটি দেখভালের দায়িত্ব দেন বলে জানান তিনি।
গাছা থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে মোজাম্মেল হোসেন বলেন, দক্ষিণ খাইলকুর এলাকায় প্রায় ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছের পরিচর্যা করে আসছেন তিনি। জমিতে আম, পেয়ারা, লেবু, কলা ও পেঁপেসহ বিভিন্ন ফলের গাছ ছিল।
এসব গাছের ফল তিনি ও আশপাশের প্রতিবেশীরা ভোগ করতেন।
অভিযোগে তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিবাদীরা তার রোপণ করা গাছ কেটে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত ৩১ আগস্ট দুপুরে তার স্ত্রী মোবাইল ফোনে তাকে জানান, মো. কাউছার ও তার সহযোগীরা অনুমতি ছাড়া জমিতে প্রবেশ করে ফলের গাছ কেটে ফেলছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বিভিন্ন ফলের গাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পান। এতে আনুমানিক ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে মো. কাউছার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এলাকায় চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটায় চোরেরা ওই লেবু গাছের নিচে লুকিয়ে থাকে। এ কারণে একজন পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি জমির জঙ্গল পরিষ্কার করেছেন।
কাউছারের দাবি, তিনি লেবু গাছটি সম্পূর্ণ কাটেননি; শুধু ছাঁটাই করেছেন। একই সঙ্গে জমিটির প্রকৃত মালিক মো. খোকনের অনুমতি নিয়েই জমিতে থাকা জঙ্গল ও লেবু গাছ পরিষ্কার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
কাউছার আরও বলেন, গাছা থানায় কর্মরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে জঙ্গল পরিষ্কারের জন্য গাছ কাটার কথা বলেছিলেন। তবে ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম জানতে চাইলে তিনি তা প্রকাশ করেননি।
কাউছারের বক্তব্যের বিষয়ে জমিটির প্রকৃত মালিক মো. খোকনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে তিনি জমিটি ক্রয় করেন। এরপর জমিটি দেখভালের দায়িত্ব তার আত্মীয় মোজাম্মেল হোসেনকে দেওয়া হয়। পরে সেখানে বিভিন্ন ধরনের ফুল ও ফলের গাছ লাগানো হয়। এসব গাছের ফল আশপাশের প্রতিবেশীরাও ভোগ করতেন।
তবে কাউছার তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে গাছ কেটেছেন—এমন দাবি সরাসরি অস্বীকার করেন মো. খোকন। তার অভিযোগ, তার অনুমতি ছাড়াই কাউছার জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন ফলের গাছ কেটে ফেলেছেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জমির মালিক।
এদিকে, গাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে জমির মালিকের অনুমতি ছিল কি না এবং গাছ কাটার বিষয়ে কোনো পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশ ছিল কি না—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কাউছারের দাবি করা পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় ও গাছ কাটার নির্দেশের বিষয়টিও এখনো সুনিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি পরবর্তীতে জানা গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে ।