সাম্প্রতিক সময়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে নিজের বিরুদ্ধে প্রচারিত সংবাদকে ‘ভুল, মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন গাজীপুরের গাছা থানার শরীফপুর গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল হোসেন খান নাঈম। একই সঙ্গে ওই সংবাদে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হোসেন বলেন, সম্প্রতি প্রচারিত ওই প্রতিবেদনে আবুল হাশেম নামের এক ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে তাঁকে একাধিক চাঁদাবাজি মামলার আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এ তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
নাজমুল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট ২০২৫ তাঁর বাড়ির সামনে গেট বন্ধ করে বালু ফেলে রাখাকে কেন্দ্র করে আবুল হাশেমের সঙ্গে তাঁর বিরোধের সৃষ্টি হয়। এতে তাঁর ব্যবহৃত গাড়ি বের করতে অসুবিধা হচ্ছিল। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে আবুল হাশেম তাঁকে ও তাঁর ছোট ভাইকে আসামি করে গাছা থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আদালতের মাধ্যমে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন বলেও দাবি করেন নাজমুল হোসেন। তাঁর অভিযোগ, মামলা ও বিরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে তাঁকে চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য।
সংবাদ সম্মেলনে রিয়াজ উদ্দিন বাবুলের করা অভিযোগেরও প্রতিবাদ করেন নাজমুল হোসেন। ওই প্রতিবেদনে তাঁকে রিয়াজ উদ্দিন বাবুলের বাড়িঘর দখলকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাজমুল হোসেন বলেন, ‘যে সম্পত্তি নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি আমার বাবার পৈতৃক সম্পত্তি। আমার বাবা পৈতৃক সূত্রে এবং তাঁর ফুফাতো বোনের কাছ থেকে খরিদ সূত্রে ওই সম্পত্তির মালিক হন। এ সম্পত্তির খাজনা-খারিজসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমাদের নামে রয়েছে।’
তাঁর অভিযোগ, পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর চাচা ওই সম্পত্তি বিক্রি করে দেন এবং রিয়াজ উদ্দিন বাবুল তা ক্রয় করেন। এরপর সম্পত্তিটি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ নিয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান নাজমুল হোসেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আইনের মাধ্যমে আমাকে মোকাবিলা করতে না পেরে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমাকে বিএনপি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় আমাকে আওয়ামী লীগের লোক বা আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচয় করানোর চেষ্টা চলছে।’
নিজের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে নাজমুল হোসেন বলেন, তিনি অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর দাবি, জুলাই আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২৫ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনেও তিনি একজন এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, ‘আমি যদি আওয়ামী লীগের দোসর হয়ে থাকি, তাহলে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে?’
সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হোসেনের অভিযোগ, তাঁর সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হেয় করা এবং সামাজিকভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। এ উদ্দেশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ তথ্য প্রচার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। যেসব অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে করা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আদালতের নথি যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসত।’
নিজের বিরুদ্ধে মানহানি ও অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে নাজমুল হোসেন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তথ্য-উপাত্ত ও অভিযোগের যথাযথ যাচাই ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের প্রতি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে মামলা-সংক্রান্ত কাগজপত্র, সম্পত্তির দলিল, খাজনা-খারিজের নথি এবং পূর্বে প্রকাশিত সংবাদসহ বিভিন্ন নথি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপনের কথা জানান।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আবুল হাশেম ও রিয়াজ উদ্দিন বাবুলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযুক্ত করা হবে।