জামালপুর-৩ (মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ) আসনের সংসদ সদস্য জনাব মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন। মাদক নির্মূলে তাঁর এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি দুই উপজেলার সচেতন মহল, অভিভাবক ও তরুণ সমাজের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন ধ্বংস করে না, এটি একটি পরিবারকে নিঃস্ব করে, সমাজের শান্তি নষ্ট করে এবং একটি সম্ভাবনাময় প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদারগঞ্জ ও মেলান্দহকে মাদকমুক্ত করার উদ্যোগকে কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং একটি সামাজিক ও মানবিক আন্দোলন হিসেবে দেখছেন সচেতন নাগরিকরা।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মাদারগঞ্জ ও মেলান্দহের অসংখ্য বিপথগামী যুবক নতুন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ পাবে। যারা মাদকের ভয়াবহ ছোবলে নিজেদের ভবিষ্যৎ হারাতে বসেছে, তাদের জন্য তৈরি হতে পারে আলোর পথে ফেরার নতুন সম্ভাবনা।
এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সংসদ সদস্যের কঠোর নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মাদক উৎপাদন, সরবরাহ, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
মাদক কারবারি যে-ই হোক, যত বড় প্রভাবশালী কিংবা ক্ষমতাধর ব্যক্তিই হোক—আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। পরিচয়, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা অর্থবিত্তের কারণে কোনো অপরাধী যেন ছাড় না পায়।
তবে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। মাদকে জড়িয়ে পড়া তরুণদের ঘৃণা নয়, প্রয়োজন সঠিক কাউন্সেলিং, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ।
মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এই কঠোর অবস্থান যদি বাস্তব ও ধারাবাহিক কার্যক্রমে রূপ নেয়, তাহলে মাদারগঞ্জ-মেলান্দহের সামাজিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন প্রজন্ম ফিরে পেতে পারে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
আমাদের প্রত্যাশা—মাদকমুক্ত মাদারগঞ্জ, মাদকমুক্ত মেলান্দহ; নিরাপদ পরিবার, সুস্থ সমাজ এবং আলোকিত আগামী প্রজন্ম।
মাদকের বিরুদ্ধে এই লড়াই হোক দল-মত-নির্বিশেষে সবার সম্মিলিত অঙ্গীকার।